বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ ২০২৫

 

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ আমাদের অনেকেরই জানা নাই। আপনি কি বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যেতে কত টাকা লাগে তা জানতে চান তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

বাংলাদেশ-থেকে-পাকিস্তান-ভ্রমণ-খরচ

আজকে আমরা বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যেতে কত খরচ হয় এবং যাওয়ার মাধ্যম সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। তাই এই বিষয়ে সকল কিছু জানতে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথেই থাকুন।

পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ কেমন তা আমরা অনেকে জানতে চাই। যদি আপনি একজন ভ্রমণ প্রিয় ব্যক্তি হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে এই বিষয়ে অবশ্যই জেনে থাকা দরকার। এছাড়া আমাদের অনেক সময় বিভিন্ন জায়গায় বা বাইরের দেশগুলো তে যাওয়ার দরকার হয়। আর আপনার যদি পাকিস্তান ভ্রমণের খরচ জানা থাকে তাহলে আপনি অনেকখানি এগিয়ে থাকবেন।

আপনি যদি একদম শুরু থেকে যাত্রা করতে চান অর্থাৎ আপনি এর আগে কোনোদিন বাইরে যান নি তাহলে এই ভ্রমণের জন্য প্রথম খরচ বা প্রথম কাজ হচ্ছে একটা পাসপোর্ট তৈরি করা। যাতে আপনার খরচ হতে পারে ৫৮০০ টাকা থেকে ৬০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এটি কমতে বা বাড়তেও পারে। যদি আপনি অনলাইনে করে তাহলে এইরকম খরচ হবে।

আর যদি আপনার পাসপোর্ট করা থাকে তাহলে এর পরবর্তী ধাপ অর্থাৎ ভিসা প্রসেসিং এর কাজে আসতে হবে। এখন আপনাকে যদি বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ এর একটা সম্পুর্ন প্রসেস ভালো করে সিরিয়াল ভাবে বলি অর্থাৎ কি কি কাজে খরচ হবে তার জন্য সেটি হলো:

  • পাকিস্তান বা যেকোনো দেশের জন্য পাসপোর্ট তৈরি করতে খরচ
  • এরপর ভিসার জন্য কাগজ প্রস্তুত করতে (কি কারনে যাবেন) খরচ
  • পাকিস্তানের ভিসার জন্য এপ্লাই করতে খরচ
  • এরপর ভিসা চলে আসলে হোটেল বুকিং এর খরচ
  • সেই হোটেলে থাকা এবং খাওয়ার খরচ
  • তারপর প্লেনের টিকিটের খরচ
  • বাংলাদেশের আপনার জেলা থেকে ঢাকা যাওয়ার যাতায়াত খরচ
  • পাকিস্তানে গিয়ে যাতায়াত ভাড়ার খরচ

উপরে উল্লেখিত কাজগুলো হলো পাকিস্তান বা যেকোনো দেশে ভ্রমণের জন্য মৌলিক খরচ। যার ফলে আপনি সময় মতো ভ্রমণ এবং আনুমানিক একটা খরচ এস্টিমেট করতে পারবেন। যা আপনার ভ্রমণ কে ঝামেলা মুক্ত ও সহজ করে তুলবে।

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান বিমান ভাড়া

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান বিমান ভাড়া কত তা আমাদের অনেকের অজানা। চলুন বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়ার জন্য এর ফ্লাইট সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। বর্তমানে ঢাকা থেকে পাকিস্তানের করাচি, ইসলামাবাদ, লাহোরের রেগুলার ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে। আপনি কোথায় যাবেন তার উপরেও খরচ ডিপেন্ড করে।

ফ্লাইটের কত দিন আগে থেকে টিকিট বুক দিচ্ছেন এবং বিমানের রুটের উপর ভিত্তি করে ফ্লাইটের খরচ কম বা বেশি হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে করাচি এয়ার আরবিয়ার ফ্লাইটের টিকিটের দাম পড়বে সর্বোচ্চ ৭০০ ডলার থেকে ৯০০ ডলার পর্যন্ত। য বাংলা টাকায় ডলার রেট ১২০ করে ধরলে আসে ৮৪ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৮ হাজারের মধ্যে।

যা সময়ের উপরে কম বা বেশি হতে পারে। এছাড়াও থাই এয়ারলাইন্সের ভাড়া ৯০০ থেকে ১১০০ ডলার যা বাংলা টাকায় ১ লক্ষ ৮ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এবং ফ্লাই দুবাইয়ের টিকিটের খরচ সর্বনিম্ন ৮১৪ ডলার থেকে ১১৫০ ডলার হতে পারে, যা প্রায় ৯৭ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকার মধ্যে হবে।

এছাড়া ইসলামাবাদ এয়ারপোর্টে আসতে চাইলে করাচি থেকে যেকোনো ফ্লাইটে ভাড়া মিনিমাম ১০০ ডলার থেকে ৩০০ ডলার বেশি হতে পারে। এছাড়া লাহোর এয়ারপোর্টে আসতে চাইলে মোটামুটি ৯০০-১১০০ ডলার পর্যন্ত বেশি খরচ লাগতে পারে। বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইট শুরু হলে এর খরচ আমাদের বাজেটের মধ্যে চলে আসবে।

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়ার উত্তম সময়

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়ার উত্তম সময় রয়েছে। কারন আপনি যেই জায়গায় যান যদি সেখানে যাওয়ার উপযুক্ত সময়ে না যান তাহলে আপনি যে উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন তা কখনো পূরন হবে না। আর আপনি যদি ভ্রমণে যান তাহলে তো আপনি সঠিক আনন্দটাই উপভোগ করতে পারবেন না। বরং আপনার অতি মূল্যবান সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হবে। তাই কোনো গেলে এর সঠিক সময়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ এর কথা চিন্তা করে ভ্রমণে গেলে সময় অনুযায়ী কিছু খরচ কম-বেশি হতে পারে। এখন চিন্তা করতে হবে আপনি কেমন ভ্রমণ উপভোগ করবেন। অর্থাৎ যদি আপনি শীত ভালোবাসেন তাহলে আপনাকে সে সময় যেতে হবে বা আপনি বৃষ্টি পছন্দ করলে সেই আবহওয়া বিবেচনা করে যেতে হবে।

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল বিশেষ করে আজাদ কাশ্মীর, গিলগিট বাল্টিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া ঘুরতে চাইলে সবচেয়ে সেরা সময় হলো জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস। আর বাকি এরিয়াগুলো শীতকালের জন্য বেস্ট। গিলগিট বাল্টিস্তানের অনেক পর্যটক স্থান শীতকালে বন্ধ থাকে তাই এই জায়গা ঘুরতে চাইলে শীতকালের আগেই আসতে হবে।

পাকিস্তানে অন্যান্য দেশগুলোর মতো সাইডসিনের জন্য শেয়ার গাড়ি খুব সহজে পাবেন না। সেজন্য কম খরচে ঘুরতে চাইলে কমপক্ষে দুই জন বা দুই থেকে চার জনের একটা টিম করে পাকিস্তান ঘুরতে আসতে পারেন। যার ফলে আপনার থাকা-খাওয়া সহ বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ অনেকখানি কমে আসবে।

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে থাকা ও খাওয়ার খরচ

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে থাকা ও খাওয়ার খরচ কত এই সম্পর্কে যারা পাকিস্তান যেতে চাই তাদের জানা খুবই জরুরি। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যেতে কত টাকা লাগে তার মধ্যে এই খরচ অন্যতম। পাকিস্তানে থাকা ও খাওয়ার খরচ বিভিন্ন বিষয়ের উপর কম বেশি বা নির্ভর করতে পারে। যেমনঃ কোন শহরে থাকবেন, হোটেল বা রিসোর্ট এর মান, বিভিন্ন ধরনের খাবার অর্থাৎ খাবারের মান এবং যদি ভ্রমণের কোনো শর্ত থাকে তার উপর।

বাংলাদেশ-থেকে-পাকিস্তান-ভ্রমণ-খরচ

থাকার খরচঃ পাকিস্তানের বড় বড় শহর গুলোতে যেমনঃ ইসলামাবাদ, করাচি, লাহোর এই ধরনের শহর গুলোতে সস্তা বা গেস্ট হাউসে থাকার খরচ প্রতি রাতে ২০০০-৫০০০ পাকিস্তানি রুপি (PKR) হয়ে থাকতে পারে। আর যদি ৩/৪ তারকা অর্থাৎ থ্রি স্টার বা ফোর স্টার হোটেল গুলোতে থাকা হয় তাহলে এর খরচ বেশি হতে পারে। তখন এর খরচ প্রতি রাতে ৮০০০-১৫০০০ পাকিস্তানি রুপি (PKR) হতে পারে।

খাবার খরচঃ সস্তা বা কমদামি খাবার হোটেল এ খাবার খেলে খরচ তুলনামূলক কম হবে। যেমন ধরা যায় প্রতি বেলায় প্রায় ৩৫০-৭০০ রুপি পর্যন্ত হতে পারে। আর মাঝারি ধরনের হোটেল এ খেলে প্রতি বেলায় প্রায় ১০০০ থেকে ২০০০ রুপি (PKR) পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। আর যদি বিদেশি কোনো খাবার খাওয়া হয় তাহলে তার খরচ ও অন্যান্য খাবারের তুলনায় বেশি হতে পারে।

পরিবহন খরচঃ কোনো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বা ট্যাক্সিতে যদি যাতায়াত করা যায় বা এই ধরনের পরিবহন ব্যবহার করা যায় তাহলে খরচ অনেক সস্তা হয়ে যাবে। পাকিস্তানের মেট্রো বা বাসে ভাড়া সাধারণত ৩০-১০০ রুপি (PKR) এবং ট্যাক্সি বা কোনো রাইড শেয়ারিং করলে ৩০০-১৫০০ পাকিস্তানি রুপি (PKR) হয়ে থাকতে পারে। তবে এগুলো শহর ভেদে কম বেশি বা আলাদা আলাদা হতে পারে। 

উপরোক্ত বিষয় গুলোতে যে খরচের পরিমান বলা হয়েছে তা কেবল ধারণা। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার লাইফস্টাইল এবং আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের উপর।

পাকিস্তানের ভিসা পাওয়ার উপায়

পাকিস্তানের ভিসা পাওয়ার উপায় এই সম্পর্কে জানার ইচ্ছা আমাদের মধ্যে অনেকেরই আছে। পাকিস্তান এর ভিসা পাওয়ার জন্য আমাদের কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। যার ফলে আমরা পাকিস্তানের ভিসা পেতে পারি। প্রথমত পাকিস্তানের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট বিভাগে আমাদের আবেদন করতে হবে। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস লাগবে। 

যেমন আবেদনকারীর পাসপোর্ট, আবেদনকারীর ছবি, আবেদন ফরম, টিকেট ব্যবস্থা অর্থাৎ হোটেল বুকিং এবং আর্থিক সক্ষমতার যথাযথ প্রমাণ থাকতে হবে। এখানে বেশকিছু ভিসার ক্যাটাগরি রয়েছে, যেমন ট্যুরিস্ট ভিসা, ব্যবসায়িক ভিসা এবং স্টুডেন্ট ভিসা ইত্যাদি। এই সকল ভিসার জন্য আলাদা আলাদা ডকুমেন্টস লাগতে পারে। ভিসার জন্য আবেদন করার পর সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্টস সাবমিট করতে হয়। 

যার মাধ্যমে এই আবেদন প্রক্রিয়াটি হয়ে থাকে। ভিসার জন্য আবেদন জমা দেওয়ার পরে সাধারণত একটি সাক্ষাৎকার অর্থাৎ ইন্টারভিউ হতে পারে। আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময়ে পাকিস্তানের কনস্যুলেট বা এম্বাসিতে উপস্থিত হতে হবে। তাছাড়া আপনি যদি বিশেষ কোনো শহরে যেতে চান তবে আপনাদের সেই শহরের জন্য বিশেষ কোনো ভিসার আবেদনও করতে হতে পারে।

পাকিস্তান ভিসা আবেদন ও খরচ

পাকিস্তান ভিসা আবেদন ও খরচ এই বিষয়ে আমাদের অনেকেরই কোনো ধারনা নেই। পাকিস্তান ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যয় কিছু পরিমান ফি প্রদান করতে হবে। যার ফলে আমরা আমাদের ভিসা আবেদন সম্পুর্ণ করতে পারবো এবং ভিসা নিতে পারবো। এই ভিসা আবেদন ও খরচ সম্পর্কে নিচে কিছু ধারনা ও আলোচনা করা হলোঃ 

পাকিস্তানের ভিসা আবেদনের জন্য প্রথমে একটি ভিসা এপ্লিকেশন ফরম পুরন করতে হবে। এই এপ্লিকেশন ফরমটি এপ্নি পাকিস্তানের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন বা সরাসরি অফিসে গিয়েও সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর প্রয়োজনীয় সকল তথ্য বা ডকুমেন্টস এবং কিছু প্রমানসহ আবেদন পত্রের সাথে জমা দিতে হবে। 

পাকিস্তানে ভ্রমণের জন্য বা পাকিস্তানে যাওয়ার জন্য নানা ধরনের ভিসা পাওয়া যায়। এই ভিসার ধরন অনুযায়ী এর কিছু আলাদা আলাদা শর্ত রয়েছে যার উপর এই খরচ নির্ভর করে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। এবং এই আবেদনের পর সাধারণত একটি ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে থাকে। যেখানে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে এই আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে থাকে। এখানে বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে সময় কম বেশি লাগতে পারে। 

এখন এই পাকিস্তান ভিসার খরচ এই সম্পর্কে বলতে গেলে এটি ভিসার ধরন এবং এম্বাসি অর্থাৎ দূতাবাসের নিয়ম অনুসারে পরিবর্তিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এই ভিসার খরচ ৩০-৮০ ইউরো অর্থাৎ ৩৬০০-৯৬০০ টাকা বা ১০০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তাছাড়া, এই ভিসা প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে চাইলে এক্সট্রা কিছু ফি নিতে পারে। আরও সঠিক ধারনার জন্য পাকিস্তান দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারেন। তবে পাকিস্তান সরকারের নতুন নীতি অনুযায়ী এই ফি ছাড়াই এই দেশে ভ্রমণ করতে পারবে। 

পাকিস্তান ট্যুরিস্ট ভিসা খরচ

পাকিস্তান ট্যুরিস্ট ভিসা খরচ এই সম্পর্কে জানা দরকার যারা বর্তমানে পাকিস্তান ভ্রমণের চিন্তা করছেন। পাকিস্তান ট্যুরিস্ট ভিসার খরচ বিভিন্ন ফ্যাক্টর এর নির্ভর করে থাকে। নাগরিকত্ব, ভিসার প্রকারভেদ এবং আবেদনকারীর দেশ অর্থাৎ আবেদনকারী কোন দেশ থেকে আবেদন করছে এই সকল বিষয় এর উপর নির্ভর করে।

এই সকল কিছুর উপর নির্ভর করে পাকিস্তান ট্যুরিস্ট ভিসার খরচ কম-বেশি হয়ে থাকে। বাংলাদেশের নাগরিকদের পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য পাকিস্তান ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন ফি ৫০০০-১০০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। যা ভিসার ধরন এবং ভিসার মেয়াদ এর অনুসারে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। তবে একাধিক এন্ট্রি ভিসা ও দীর্ঘমেয়াদী ভিসার জন্য খরচ আরও বেশি হতে পারে।

এই ভিসা আবেদন ফি সাধারণত ব্যাংক এর মাধ্যমে বা নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে প্রদান করতে হবে। পাকিস্তান ট্যুরিস্ট ভিসা খরচ অর্থাৎ ভিসা ফি অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এই খরচ এর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য অবশ্যয় পাকিস্তান দূতাবাস অথবা কন্স্যুলেটের অফিসে গিয়ে বা যেকোনো মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। যার ফলে এর খরচ সম্পর্কে আপনি আরও বেশি নিশ্চিত হতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ নিয়ে জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ বাংলাদেশীদের জন্য পাকিস্তান ভিসা ফি কত?

উত্তরঃ পাকিস্তান তাদের ভিসার একটি নতুন নীতি চালু করেছে যেখানে বাংলাদেশের নাগরিকসহ ১২৬ টি দেশে নাগরিকরা কোনো রকম ভিসা ফি ছাড়াই তাদের দেশে ভ্রমণ করতে পারবে।

প্রশ্নঃ পাকিস্তান ভ্রমণের উপযুক্ত মাস কোনটি?

উত্তরঃ পাকিস্তানের ভ্রমণের উপযুক্ত মাস হলো মে থেকে অক্টোবর মাস এর মধ্যে। কারণ এ মাস গুলো গ্রীষ্মকালের মাঝামাঝি সময়ে হাওয়ায় তাপমাত্রা একই সময়ে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রী এবং সর্বনিম্ন ২০ ডিগ্রি হয়ে থাকে। তবে এই তাপমাত্রার পার্থক্য স্থান ভেদে হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ বাঙ্গালীদের কি পাকিস্তান ভিসা লাগে? 

উত্তরঃ ইলেকট্রনিক ভিসা অর্থাৎ ই-ভিসা যা বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য উপলব্ধ করা হয়েছে। যারা পর্যটনের জন্য পাকিস্তান যেতে চায় তাদের জন্য। 

প্রশ্নঃ পাকিস্তানের ভিসার টাকা কিভাবে দিতে হয়?

উত্তরঃ পাকিস্তানের অনলাইন ভিসা সিস্টেম রয়েছে যেখানে আবেদন করলে ভিসার টাকা ডেবিট কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। 

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কি পাকিস্তানের দূতাবাস আছে? 

উত্তরঃ বাংলাদেশের ঢাকায় পাকিস্তানের একটি দূতাবাস রয়েছে এবং চট্টগ্রামের একটি কনস্যুলেটের মাধ্যমে কুটনৈতিক উপস্থিতি বজায় থাকে।

প্রশ্নঃ ঢাকা থেকে পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট আছে?

উত্তরঃ ঢাকা থেকে পাকিস্তানের সরাসরি ফ্লাইট নাই। তবে ট্রানজিট ফ্লাইট আছে। ২০২৬ সাল থেকে ঢাকা থেকে পাকিস্তানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে।

পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য সেরা টুরিস্ট স্থান

পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য সেরা টুরিস্ট স্থান সম্পর্কে আপনার সঠিক ধারনা থাকতে হবে। আপনি যদি ভ্রমণ রশিক হয়ে থাকেন এবং ট্যুর কে আনন্দদায়ক করতে চান তাহলে আপনাকে সঠিক জায়গায় যেতে হবে। সেই জায়গার আবহাওয়া, সেই জায়গার পরিবেশ, সেই জায়গার সুযোগ ও সুবিধা অনুযায়ী ভ্রমণের জায়গাটা নির্ধারন করতে হবে।

পাকিস্তান-ভ্রমণের-জন্য-সেরা-টুরিস্ট-স্থান

পাকিস্তান ভ্রমণের জন্য বেশ কিছু সুন্দর ঐতিহাসিক টুরিস্ট স্থান রয়েছে। যা আপনার ভ্রমণকে অনেক বেশি মজাদার ও ভ্যালু ফর মানি হয়ে উঠবে। নিম্নে এরকম কিছু জনপ্রিয় এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন টুরিস্ট স্থান উল্লেখ করা হলো:

  • ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের রাজধানী শহর, যেখানে আপনি মোল্লা জাহান মসজিদ, দমন-ই-কোহ পার্ক এবং পাকিস্তান মেমোরিয়াল দেখতে পাবেন।
  • গিলগিট-বালতিস্তান: পাকিস্তানের সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক অঞ্চল, যেখানে হুনজা ভ্যালি, নাঙ্কি, রাওলপিন্ডি, এবং দিউলাক্কি লেক দেখতে পাবেন।
  • মুর্রি: ইসলামাবাদ থেকে কাছাকাছি, মুর্রি একটি পাহাড়ি রিসোর্ট শহর যা শীতকালে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়াও এখানেই অনেক সুন্দর জায়গা এবং পার্ক রয়েছে ঘুরার মতো।
  • লাহোর: পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক রাজধানী, যেখানে লাহোর ফোর্ট, বাদশাহী মসজিদ এবং শাহী কেল্লা দেখা যায়।
  • নালটার ভ্যালি: এটি পাকিস্তানের অন্যতম এক জনপ্রিয়  ট্যুরিস্ট স্থান। এটি মূলত একটি বরফ-পাহাড়ি অঞ্চল। যা আপনাকে মাউন্ট এভারেস্ট এর মতো ভিউ এবং ফিলিংস উপভোগ করার সুযোগ দিবে।

শেষকথা

বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান ভ্রমণ খরচ বা বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যেতে কত টাকা লাগে এই সম্পর্কে আজকের আর্টিকেলে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আশা করি এই বিষয়ে আপনারা সবকিছুই বুঝতে পেরেছেন। বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তান যাওয়ার জটিলতা অনেকখানি কমে এসেছে এবং যাওয়ার পথ সহজ হয়ে গেছে।

আর এটি অবলম্বন করতে দরকার সঠিক গাইডলাইন। আর আজকের পোস্টে আপনাদের সেই গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আর আপনি যদি এই পোস্ট থেকে উপকৃত হয়ে থাকেন এবং এইরকম আরও ইনফরমেটিভ বিষয়ে জানতে আগ্রহী হন তাহলে এই ওয়েবসাইট টি ফলো করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

নেক্সাস আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url